অফিসের ভেতরে একবার ব্যবহার করা যায় এমন জিনিসপত্রের ব্যবহার কমাতে নতুন কিছু উপায় নিয়ে ভাবছি। সত্যি বলতে, চারিদিকে প্লাস্টিক আর কাগজের স্তূপ দেখলে নিজেরই খারাপ লাগে। শুধু পরিবেশের ক্ষতি নয়, অফিসের বাজেটেও এর একটা প্রভাব পড়ে। আমার মনে হয়, ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন আনলেই আমরা এই সমস্যার সমাধান করতে পারি। যেমন, নিজের জলের বোতল আর কফি মগ ব্যবহার করা, অথবা টিফিন বক্স নিয়ে আসা – এগুলো খুব সহজ উপায়। রিসেন্টলি GPT সার্চ করে দেখলাম, অনেকেই এখন পরিবেশ-বান্ধব জিনিস ব্যবহার করার দিকে ঝুঁকছেন, এবং এতে অফিসের কর্মীদের মধ্যেও একটা পজিটিভ প্রভাব পড়ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে পরিবেশের উপর আরও বেশি নজর রাখা হবে, এমন একটা ভবিষ্যৎ-এর আভাসও পাওয়া যাচ্ছে। তাই, আসুন, আমরাও চেষ্টা করি আমাদের অফিসকে আরও একটু সবুজ করে তুলতে।নিচে এই বিষয়ে আরও স্পষ্টভাবে আলোচনা করা হলো।
কর্মক্ষেত্রে এক ব্যবহারযোগ্য সামগ্রীর বিকল্প: একটি নতুন দিগন্ত

বর্তমানে আমার অফিসের সবচেয়ে বড় চিন্তা হলো কিভাবে একবার ব্যবহার করা যায় এমন জিনিসপত্র কমানো যায়। সত্যি বলতে, চা-কফির কাপ থেকে শুরু করে জলের বোতল, সবই প্লাস্টিকের দখলে। ভাবছি, এর একটা বিহিত তো করতেই হবে।
নিজের জলের বোতল ও কফি মগ ব্যবহার
আমার মনে হয়, সবচেয়ে সহজ সমাধান হল নিজের জলের বোতল ও কফি মগ ব্যবহার করা। অফিসের ক্যান্টিনে বা আশেপাশে অনেক দোকানেই এখন সুন্দর ডিজাইনের বোতল আর মগ পাওয়া যায়। নিজের একটা থাকলে, বারবার প্লাস্টিকের বোতল বা কাগজের কাপ ব্যবহার করার দরকার পরে না।
কাপড়ের তোয়ালে অথবা রুমাল ব্যবহার
অফিসের ওয়াশরুমে পেপার টাওয়েলের ব্যবহার কমাতে কাপড়ের তোয়ালে অথবা রুমাল ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন কাগজের সাশ্রয় হবে, তেমনই অন্যদিকে পরিবেশের উপরও কম প্রভাব পড়বে।
টিফিন বক্স ব্যবহার
বাইরের খাবার প্রায়শই প্লাস্টিকের কন্টেনারে আসে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই, টিফিন বক্সে করে খাবার নিয়ে এলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
অফিসে পরিবেশ-বান্ধব সামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধি
আমার এক বন্ধু একটি আইটি ফার্মে কাজ করে। তাদের অফিসে পরিবেশ-বান্ধব সামগ্রী ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রথমে কর্মীদের মধ্যে কিছুটা অনীহা থাকলেও, পরে সবাই বুঝতে পারে যে এটা পরিবেশের জন্য কতটা জরুরি।
পুনর্ব্যবহারযোগ্য পেন ও পেন্সিল ব্যবহার
আমরা প্রায়ই কাজ করতে গিয়ে পেন অথবা পেন্সিল ব্যবহার করি এবং কাজ শেষে সেগুলোকে ফেলে দেই। কিন্তু বাজারে এখন অনেক পুনর্ব্যবহারযোগ্য পেন ও পেন্সিল পাওয়া যায়, যেগুলো ব্যবহার করা শেষ হয়ে গেলে আবার রিফিল করা যায়।
কাগজের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে কাজ করা
কাগজের ব্যবহার কমিয়ে অফিসের কাজকর্ম ডিজিটাল মাধ্যমে করার চেষ্টা করা উচিত। এতে একদিকে যেমন কাগজের সাশ্রয় হবে, তেমনই অন্যদিকে ফাইলপত্র হারিয়ে যাওয়ার ভয়ও থাকবে না।
পরিবেশ-বান্ধব স্টেশনারি ব্যবহার
বাজারে এখন অনেক পরিবেশ-বান্ধব স্টেশনারি পাওয়া যায়, যেমন বাঁশ বা কাঠের তৈরি পেন, রিসাইকেল করা কাগজ, ইত্যাদি। এগুলো ব্যবহার করে আমরা পরিবেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারি।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক উপায়
আমার দেখা একটি ঘটনা বলি। গত বছর আমি একটি সেমিনারে গিয়েছিলাম, যেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। সেখানে একজন বক্তা বলেছিলেন, “বর্জ্যকে বর্জ্য না ভেবে সম্পদ হিসেবে দেখুন।” কথাটি আমার মনে গেঁথে গেছে।
পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করা
অফিসের বর্জ্যকে আলাদা করার জন্য আলাদা বিন ব্যবহার করা উচিত। যেমন, কাগজের জন্য একটি বিন, প্লাস্টিকের জন্য একটি বিন এবং অন্যান্য বর্জ্যের জন্য আলাদা বিন।
কম্পোস্টিং
অফিসের আশেপাশে যদি বাগান থাকে, তাহলে সেখানে কম্পোস্টিং করা যেতে পারে। অফিসের ফেলে দেওয়া সবজি বা ফলের খোসা, চা পাতা ইত্যাদি দিয়ে কম্পোস্ট তৈরি করা সম্ভব।
বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করা
অফিসের বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করার জন্য স্থানীয় রিসাইক্লিং সেন্টারের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। তারা অফিসের বর্জ্য সংগ্রহ করে পুনর্ব্যবহার করার ব্যবস্থা করতে পারে।
কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি
আমি একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করি, যেখানে প্রতি মাসে পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় কর্মীদের পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব বোঝানো হয় এবং তারা কিভাবে অফিসে পরিবেশ-বান্ধব কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
নিয়মিত কর্মশালা ও সেমিনারের আয়োজন
অফিসের কর্মীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত কর্মশালা ও সেমিনারের আয়োজন করা উচিত।
পুরস্কার ও স্বীকৃতির ব্যবস্থা
যেসব কর্মী পরিবেশ-বান্ধব কাজে বিশেষ অবদান রাখবেন, তাদের জন্য পুরস্কার ও স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা উচিত। এতে অন্যরাও উৎসাহিত হবেন।
সচেতনতামূলক পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ
অফিসের দেওয়ালে পরিবেশ সচেতনতামূলক পোস্টার লাগানো যেতে পারে এবং কর্মীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা যেতে পারে।
টেকসই অফিস সরবরাহ নিশ্চিত করা

আমার এক বন্ধু একটি সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিতে কাজ করে। তাদের কোম্পানি সবসময় চেষ্টা করে পরিবেশ-বান্ধব পণ্য সরবরাহ করতে। তারা এমন সরবরাহকারীদের সাথে কাজ করে, যারা পরিবেশের প্রতি যত্নশীল।
পরিবেশ-বান্ধব পণ্য নির্বাচন
অফিসের জন্য পণ্য কেনার সময় পরিবেশ-বান্ধব পণ্য নির্বাচন করা উচিত। যেমন, এনার্জি-এফিসিয়েন্ট লাইট বাল্ব, কম ভোল্টেজের কম্পিউটার, ইত্যাদি।
টেকসই সরবরাহকারীদের সাথে কাজ করা
এমন সরবরাহকারীদের সাথে কাজ করা উচিত, যারা পরিবেশের প্রতি যত্নশীল এবং টেকসই পণ্য সরবরাহ করতে আগ্রহী।
বাল্ক ক্রয়
পণ্য কেনার সময় বেশি পরিমাণে কিনলে প্যাকেজিংয়ের বর্জ্য কমানো যায়। তাই, সম্ভব হলে বাল্ক ক্রয় করা উচিত।
| বিষয় | উপায় | সুবিধা |
|---|---|---|
| এক ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী কমানো | নিজের জলের বোতল ও কফি মগ ব্যবহার, কাপড়ের তোয়ালে ব্যবহার, টিফিন বক্স ব্যবহার | পরিবেশের সুরক্ষা, খরচ সাশ্রয় |
| পরিবেশ-বান্ধব সামগ্রী ব্যবহার | পুনর্ব্যবহারযোগ্য পেন ও পেন্সিল ব্যবহার, কাগজের ব্যবহার কমানো, পরিবেশ-বান্ধব স্টেশনারি ব্যবহার | পরিবেশের সুরক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবন |
| বর্জ্য ব্যবস্থাপনা | বর্জ্য আলাদা করা, কম্পোস্টিং, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার | পরিবেশের সুরক্ষা, রিসোর্স সাশ্রয় |
| সচেতনতা বৃদ্ধি | কর্মশালা ও সেমিনার, পুরস্কার ও স্বীকৃতি, পোস্টার ও লিফলেট | কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ-বান্ধব আচরণ |
| টেকসই সরবরাহ | পরিবেশ-বান্ধব পণ্য নির্বাচন, টেকসই সরবরাহকারীদের সাথে কাজ করা, বাল্ক ক্রয় | পরিবেশের সুরক্ষা, দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা |
সরকারি নীতি ও প্রণোদনা
আমি একটি সরকারি ওয়েবসাইটে পড়েছিলাম যে, সরকার পরিবেশ-বান্ধব অফিসগুলোকে বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছে। যেমন, কর ছাড়, ভর্তুকি, ইত্যাদি।
পরিবেশ-বান্ধব নীতি অনুসরণ
অফিসের পরিবেশ-বান্ধব নীতি অনুসরণ করা উচিত এবং সরকারি নিয়মকানুন মেনে চলা উচিত।
প্রণোদনার জন্য আবেদন
সরকার পরিবেশ-বান্ধব অফিসগুলোর জন্য যে প্রণোদনা দেয়, সেগুলোর জন্য আবেদন করা উচিত।
নিয়মিত নিরীক্ষণ
অফিসের পরিবেশ-বান্ধব কার্যক্রম নিয়মিত নিরীক্ষণ করা উচিত এবং ত্রুটিগুলো সংশোধন করা উচিত।
কম খরচে পরিবেশ সুরক্ষার কৌশল
আমার এক পরিচিত একটি ছোট ব্যবসা চালান। তিনি খুব কম খরচে তার অফিসকে পরিবেশ-বান্ধব করে তুলেছেন। যেমন, তিনি পুরনো কাগজ দিয়ে নোটপ্যাড তৈরি করেন, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করেন এবং অফিসের লাইটগুলো দিনের বেলায় বন্ধ রাখেন।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়
অফিসের লাইট ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করলে বন্ধ করে রাখা উচিত।
জল সাশ্রয়
অফিসের জলের কলগুলো মেরামত করা উচিত এবং বৃষ্টির জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত।
পুনর্ব্যবহৃত সামগ্রী ব্যবহার
অফিসের পুরনো কাগজ, কার্ডবোর্ড ইত্যাদি পুনর্ব্যবহার করা উচিত।আমার মনে হয়, এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো আনলেই আমরা আমাদের অফিসকে আরও পরিবেশ-বান্ধব করে তুলতে পারব।
শেষ কথা
আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আমাদের কর্মক্ষেত্রকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য করে তুলতে পারি। আসুন, আমরা সবাই পরিবেশের প্রতি যত্নশীল হই এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি। ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই একদিন বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে।
দরকারী কিছু তথ্য
১. পুরনো ক্যালেন্ডারের কাগজ দিয়ে সুন্দর নোটপ্যাড তৈরি করতে পারেন।
২. অফিসের ছাদে ছোট বাগান তৈরি করে সবজি চাষ করতে পারেন।
৩. অফিসের পুরনো আসবাবপত্র মেরামত করে ব্যবহার করুন, নতুন কেনার দরকার নেই।
৪. কর্মীদের জন্য পরিবেশ-বান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা চালু করতে পারেন, যেমন সাইকেল ব্যবহার উৎসাহিত করা।
৫. অফিসের অনুষ্ঠানে প্লাস্টিকের পরিবর্তে মাটির পাত্র ব্যবহার করুন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
অফিসে একবার ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্রের ব্যবহার কমানো, পরিবেশ-বান্ধব সামগ্রী ব্যবহার করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক উপায় অবলম্বন করা, কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং টেকসই অফিস সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের কর্মক্ষেত্রকে পরিবেশ-বান্ধব করে তুলতে পারি।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: অফিসে একবার ব্যবহারযোগ্য জিনিস কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায়গুলো কী কী?
উ: আমার মনে হয় সবচেয়ে সহজ উপায় হল নিজের জলের বোতল ও কফি মগ ব্যবহার করা এবং টিফিন বক্সে খাবার নিয়ে আসা। এছাড়া, অফিসের ক্যান্টিনে স্টিলের বাসন ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা যেতে পারে। আমি যখন প্রথম নিজের মগ ব্যবহার করা শুরু করি, কলিগদের দেখে তারাও উৎসাহিত হয়।
প্র: পরিবেশ-বান্ধব অফিস তৈরির ফলে কর্মীদের উপর কেমন প্রভাব পড়ে?
উ: আমি দেখেছি যে, যখন অফিসে পরিবেশ-বান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখন কর্মীদের মধ্যে একটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। তারা মনে করে যে কোম্পানি তাদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের কথা ভাবছে। এছাড়া, রিসাইকেল করার মতো ছোট ছোট উদ্যোগেও অনেকে উৎসাহিত হয়, যা তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়ায়। আমার এক বন্ধু বলছিল, তাদের অফিসে রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থা করার পর কর্মীদের মধ্যে টিম স্পিরিট বেড়েছে।
প্র: ২০৩০ সালের মধ্যে পরিবেশ সুরক্ষায় অফিসের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?
উ: ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিটি অফিসের উচিত তাদের কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানোর জন্য একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা। এর মধ্যে থাকতে পারে এনার্জি সাশ্রয়ী আলো ব্যবহার, কাগজless হওয়ার চেষ্টা এবং কর্মীদের জন্য পরিবেশ-বান্ধব ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা করা। আমার মনে হয়, কোম্পানিগুলোর উচিত এই বিষয়ে আরও বেশি সচেতন হওয়া, কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা সবুজ পৃথিবী রেখে যাওয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব।
📚 তথ্যসূত্র
Wikipedia Encyclopedia
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과






